ঢাকা, সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   আশ্বিন ৬ ১৪৩৩

টাঙ্গাইলে চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:২৭ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার

টাঙ্গাইল সদরের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মামলার আরেক আসামি সঞ্জিত ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ এবং শ্রীফলিয়াটা গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩১)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সুজন, সানোয়ার হোসেন, মো. শফিকুল ইসলাম শফিক ও রুজবেল ইমন।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বের হয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম ফারুক। শহরের আকুরটাকুরপাড়া বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
তবে ওই তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির পুনঃতদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল একই আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে নতুন করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচার শুরু হয়। মামলায় দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

এমএইচ