এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ ফেরানোর স্বপ্ন লিটনের
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:০২ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের লক্ষ্য পরিষ্কার—ফাইনালে ওঠা এবং সুযোগ পেলে স্বর্ণপদকের লড়াই করা। জাপানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে এমন প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস।
এবারই প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাচ্ছেন লিটন। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ কিংবা দ্বিপাক্ষিক সিরিজের অভিজ্ঞতা থাকলেও এশিয়ান গেমসকে তিনি দেখছেন ভিন্ন এক উপলক্ষ হিসেবে। কারণ, এখানে একটি টুর্নামেন্ট জয়ের পাশাপাশি দেশের জন্য স্বর্ণপদক অর্জনের সুযোগ থাকে।
২০১০ সালের এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট থেকে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত সেটিই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সর্বশেষ স্বর্ণপদক। দীর্ঘ সময় পর সেই সাফল্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এবার মাঠে নামতে চান লিটনরা।
জাপান যাওয়ার আগে দলের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট লিটন। দীর্ঘ সময় পর একসঙ্গে ক্যাম্প করার পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর আবার একসঙ্গে অনুশীলন করায় দলের খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়াও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এশিয়ান গেমসে নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে লিটন বলেন, যেকোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিলে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য থাকে। তবে এশিয়ান গেমসের মতো আসর নিয়মিত আসে না। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে চান তারা।
স্বর্ণপদকের প্রত্যাশা দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে কি না—এমন আলোচনাও রয়েছে। তবে লিটন এটিকে চাপ হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে নিতে চান। তার মতে, দেশের হয়ে বড় কোনো আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগই খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগায়।
এশিয়ান গেমসের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পুরোনো সাফল্যের যোগসূত্রও রয়েছে। ২০১০ সালে পুরুষ ক্রিকেট দল স্বর্ণ জেতার পর আর কোনো ইভেন্টে বাংলাদেশ স্বর্ণপদক পায়নি। এবার সেই ইতিহাস পুনরায় লেখার সুযোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন লিটন।
এদিকে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট থাকছে। ফলে এশিয়ান গেমসে ভালো পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অলিম্পিক নিয়েও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আগ্রহ রয়েছে। তবে লিটন আপাতত ভবিষ্যতের হিসাব নিয়ে না ভেবে এশিয়ান গেমসের ম্যাচগুলোতেই মনোযোগ দিতে চান।
তার মতে, অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন সবারই থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ে দলের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এশিয়ান গেমসে নিজেদের সামর্থ্য দেখানো। ফাইনালে যেতে হলে এক ম্যাচ করে এগিয়ে যেতে হবে। তাই আপাতত ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনাই তাদের মূল ভাবনা।
শুধু ক্রিকেট নয়, এশিয়ান গেমসে অন্য খেলাগুলো দেখার প্রতিও আগ্রহ রয়েছে লিটনের। বিকেএসপিতে থাকার সময় ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সময়-সুযোগ পেলে এবারও অন্য ইভেন্ট সরাসরি দেখার ইচ্ছা আছে তার।
বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটদের কাছ থেকে শেখার সুযোগকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন এই ক্রিকেটার। একই আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি, তাদের প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখাকে তিনি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন।
লিটনের ক্রীড়া আগ্রহের তালিকায় অ্যাথলেটিকসও রয়েছে। বিশেষ করে জ্যামাইকান স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের পারফরম্যান্স তাকে আকৃষ্ট করত। ক্রিকেটের দীর্ঘ সময়ের ম্যাচের তুলনায় স্বল্প সময়ের দৌড় প্রতিযোগিতায় দ্রুত ফল পাওয়ার বিষয়টিও তার কাছে উপভোগ্য বলে মনে করেন তিনি।
তবে এসবের বাইরে লিটন ও তার সতীর্থদের মূল মনোযোগ ক্রিকেটেই। জাপানে গিয়ে ম্যাচ ধরে এগিয়ে ফাইনালে পৌঁছানো এবং সুযোগ এলে ২০১০ সালের স্বর্ণজয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান তারা।
বাংলাদেশের ক্রিকেট দল ভালো করলে তা দেশের অন্যান্য খেলাধুলার জন্যও ইতিবাচক বার্তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন লিটন। তার কাছে দেশের হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এবার সেই দায়িত্বের সঙ্গে যোগ হয়েছে এশিয়ান গেমসের স্বর্ণপদকের স্বপ্ন।
এমএইচ
