প্রাথমিকে ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর, লাগবে যেসব কাগজ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:১১ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর যোগদান ও পদায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচিতদের আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে হবে। এরপর ৪ অক্টোবর পদায়নের আদেশ দেওয়া হবে।
এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশ গত ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা হয়। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার ওই নির্দেশনার একটি অনুলিপি পাওয়া গেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইস্যু করতে হবে। কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব না হলে তার কারণ উল্লেখ করে কোটা ও সংশ্লিষ্ট মতামতসহ তালিকা ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
নিয়োগপত্র পাওয়ার পর নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকদের ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দিতে হবে। যোগদানের পর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়নের আদেশ জারি করা হবে। প্রশিক্ষণের সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
নিয়োগপত্র ইস্যুর আগে প্রার্থীর মূল আবেদনপত্রে দেওয়া বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয়তাসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জাতীয়তার সনদপত্রও যথাযথভাবে পরীক্ষা করে উপযুক্ত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
প্রার্থীর স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার বিষয়টিও যাচাই করতে হবে। এ জন্য জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ এবং ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর নিয়োগ আদেশ জারি করতে বলা হয়েছে।
যাচাইয়ে কোনো ভুল, অসংগতি বা তথ্যের গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগপত্র স্থগিত রাখতে হবে। এমন প্রার্থীদের বিষয়ে প্রতিবেদন ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার প্রত্যয়ন না থাকলেও নিয়োগপত্র দেওয়া যাবে না। একইভাবে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন নেতিবাচক হলে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ তথ্য বা মন্তব্য পাওয়া গেলেও তার নিয়োগ আদেশ জারি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের সময় কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এগুলো হলো—
যোগদানের অনুমতির আবেদনপত্রের তিন কপি; স্ট্যাম্পে করা অঙ্গীকারনামার এক কপি; নিয়োগপত্রের এক সেট ফটোকপি।
এ ছাড়া যোগদানের সময় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত যোগ্যতাগুলো পূরণ করার প্রমাণও দেখাতে হবে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
নিয়োগ আদেশের নির্ধারিত নমুনা অনুসরণ করে প্রার্থীর নাম, মা-বাবা বা স্বামীর নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য মূল আবেদনপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে বলা হয়েছে।
পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন।
পরে ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়। একই সঙ্গে জেলা অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
এমএইচ
