ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   আশ্বিন ৯ ১৪৩৩

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অর্থায়নের আহ্বান ড.সাইমুম পারভেজের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০২:৫৪ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০২:৫৯ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (ইউএনজিএ ৮১) সাইডলাইনে আয়োজিত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ফোরাম সিভিএফের বৈঠকে জলবায়ু ন্যায়বিচার, উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক সংহতিকে জলবায়ু মোকাবিলার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। একই সঙ্গে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য, দীর্ঘমেয়াদি ও ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘ডেভেলপমেন্ট রিসেট অ্যান্ড কোঅপারেশন’ শীর্ষক এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ফোর্থ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) লিডার্স মিটিং অন ডেভেলপমেন্ট রিসেট অ্যান্ড কোঅপারেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন ড. সাইমুম পারভেজ। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে ইউএনজিএ ৮১-এ অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের চেয়ার ও বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী এইচ.ই. মিয়া আমোর মোটলি। এতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তব্যে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভবিষ্যতের কোনো সংকট নয়, বরং বর্তমানের বাস্তবতা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন আগামীকালের শিরোনাম নয়; এটি আজ আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।”

আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও উন্নয়ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কণ্ঠ আরও শক্তিশালী করার আহ্বানও জানান তিনি। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ ও দাবি আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন ড. সাইমুম পারভেজ।

ঢাকা ডিক্লারেশন ২০১১ থেকে ঢাকা-গ্লাসগো ডিক্লারেশন ২০২১ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ইস্যুকে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যখন ঐক্যবদ্ধভাবে কথা বলে, তখন বিশ্ব আর মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারে না।”

বৈঠকে ভালনারেবিলিটি টু ভায়াবিলিটি (ভিটুভি) কমপ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান ড. সাইমুম পারভেজ। একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত অভিঘাতের কারণে ব্যালান্স অব পেমেন্টসের ওপর সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় দ্রুত তারল্য সহায়তা দিতে প্রস্তাবিত লাইফলাইন ফান্ডের প্রতি বাংলাদেশের জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনি।

ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে একটি বড় জলবায়ু দুর্যোগই কয়েক বছরের উন্নয়ন অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই জলবায়ু অভিঘাতের পর দ্রুত কার্যকর আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সক্ষম ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে ভিটুভি কমপ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়া, লাইফলাইন ফান্ড কার্যকর করা এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান ড. সাইমুম পারভেজ। তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন।

জলবায়ু ও অর্থায়নের দ্বৈত সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপের কারণে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ দেশকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে।

কপ৩১ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার তুলে ধরেন ড. সাইমুম পারভেজ। এগুলো হলো—পূর্বানুমেয়, সহজ শর্তের ও ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা; লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড পুরোপুরি কার্যকর করে দ্রুত ও সহজে অর্থ ছাড়; ঋণ পরিশোধে ছাড় ও সহজ শর্তের অর্থায়ন বাড়াতে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার; এবং জলবায়ু জবাবদিহি জোরদারে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের পরামর্শমূলক মতামত কাজে লাগানো।

ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে যেন স্কুল নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক উন্নয়নের প্রয়োজন এবং জলবায়ু সহনশীলতা তৈরির মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য ও কার্যকর করতে হবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পদক্ষেপকে সবার জন্য টেকসই ও ন্যায়সংগত উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে হবে।

এমএইচ