ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   আশ্বিন ৯ ১৪৩৩

বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আপসের দাব

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:৪৫ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস হয়েছে বলে দাবি করেছেন গাড়ির চালকের আসনে থাকা ১৭ বছরের কিশোরের আইনজীবী। 

আইনজীবীর দাবি, দাফন-কাফনের জন্য এক লাখ টাকা এবং নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার বাদী মেহেদীর ভাই মোক্তাদির ইসলাম আপসের কথা স্বীকার করলেও কত টাকায় আপস হয়েছে, তা জানেন না বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলা আপসযোগ্য নয়। আপস হলেও আদালত তা গ্রহণ করতে বাধ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু আদালতের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন কিশোরটির আইনজীবী আলমগীর হোসেন।

মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেহেদী হাসানকে চাপা দেয়। ২৪ বছর বয়সী মেহেদীকে পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভাই মোক্তাদির ইসলাম বুধবার গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হলেও চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরের নাম ছিল না।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর বুধবার ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরেফীন ইসলাম।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির ১৭ বছরের ওই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানি শেষে কিশোরটির আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের কাছে মামলার আপসের কথা জানান। পরে সাংবাদিকেরা মামলার বাদী মোক্তাদির ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। 

মোক্তাদির ইসলাম বলেন, “মামলার বিষয়ে আপস হয়েছে। কত টাকায় আপস হয়েছে জানি না। আমার মামা জানেন।” ৯ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বলেন, “সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা মামলা আপসযোগ্য নয়। বাদী বা আসামিপক্ষের মধ্যে আপস হলে আদালত সেটা গ্রহণ করতে বাধ্য না। মানুষ মারা যাবে। সেই মামলায় আপস হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।”

আপসের বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার জানা আছে কি না, জানতে চাইলে এসআই আরেফীন ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। আপসের কারণে তদন্তে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না, আমরা আমাদের মতো তদন্ত করে যাব।”

এমএইচ