আগুন-বোমাবাজির সঙ্গে জড়িতরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু: রিজভী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৯:২৭ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
রাজধানীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কথিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে সমাবেশে শেষ হয়।
সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা আগুন দেওয়া ও বোমাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বিরোধী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী দাবি করেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে। বিদেশি নম্বর থেকে এসব কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসছে বলেও বিভিন্ন সংবাদে তথ্য এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নম্বরটি প্রতিবেশী একটি দেশের। এ ঘটনাকে তিনি ষড়যন্ত্রের গভীরতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরছেন। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ও রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিয়েও আলোচনা চলছে।
রিজভী আরও বলেন, দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ নিয়মিত আসতে শুরু করলে তেলের দাম আবারও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে নৈরাজ্য, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। দলটির কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামও চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। তার দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অংশ দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে এবং দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।
এ্যানি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় বিএনপির লড়াই অব্যাহত থাকবে।
বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকার যখন অর্থনীতি সচল করা ও দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছে, তখন একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আতঙ্ক তৈরি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বকুল বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। এ সময় অনেকে নিহত ও গুম হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। দেশের স্বার্থে দলের নেতাকর্মীরা অতীতেও জনগণের পাশে ছিলেন বলে মন্তব্য করেন বকুল।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, দেশে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কোনো ধরনের পুনর্বাসন তারা মেনে নেবেন না। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মতো কোনো ভূমিকা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় ছাত্র-জনতা তা প্রতিহত করবে।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এমএইচ
