ঢাকা, শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   আশ্বিন ১০ ১৪৩৩

হুথিদের হামলা, বৈঠকে বসছেন সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৫৯ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। 

রিয়াদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। 

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা গত জুলাই মাস থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের হামলা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ইতি টেনে সৌদির বিরুদ্ধে নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ এবং বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছে গোষ্ঠীটি।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে এই বিদ্রোহীরা। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের ওই বিশেষ বৈঠকে অংশ নিতে দেশটির সেনাপ্রধান শুক্রবার সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন। তবে বৈঠকটি ঠিক একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পরপরই তিন দেশের সেনাপ্রধানদের এই জরুরি যৌথ বৈঠকের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

সৌদির সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ অনুযায়ী সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।

গত মাসে দেশ তিনটি একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, জোটের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে তা অন্য দেশগুলো নিজেদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করবে এবং যৌথভাবে সুরক্ষায় এগিয়ে আসবে। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ধাঁচে এমন শক্তিশালী সামরিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে নামেনি।

এসপিএ জানিয়েছে, তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথভাবে সৌদির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে হুথিদের চালানো ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কায় চালানো হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। যদিও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মক্কায় হামলার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে।

এদিকে, সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি সালেহ বিন ফাওজান বিন আবদুল্লাহ আল-ফাওজান দেশটির সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থেকে নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুথি গোষ্ঠী ও তাদের মদদদাতাদের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন।

এমএইচ