বোমাবাজি নিয়ে পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:১৩ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ১০:২২ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি এনসিপি নেতা পাটওয়ারী মন্তব্য করেছিলেন যে, সরকার তাদের তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না। গত সোমবার রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক এই বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল বলেন, তাহলে তাকেই জিজ্ঞাসা করতে হবে সে এই বক্তব্য কেন দিল। অবশ্যই আমার মনে হয় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তা না হলে সে এই কথা বলল কেন? তবে পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।
এই সংবাদ সম্মেলনটি মূলত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও নয় হাজার কাগজের মুখোশসহ যুবলীগ নেতা জাহিদ হাসান ইমনকে (৩০) গ্রেফতারের বিষয়ে তথ্য জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তের একপর্যায়ে ইমনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় । এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় । গ্রেপ্তারের পর ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসা থেকে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত দেড় কেজি কস্টিক সোডা, দেড় কেজি সালফার, স্প্লিন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাঁচ কেজি মারবেল, ২ কেজি তারকাঁটা, ৩১টি লাল ও কালো টেপ এবং অপরাধের সময় পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে মজুত করা মোট নয় হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করা হয়।
যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাহিদ হাসান ইমন স্বীকার করেছেন যে, লালবাগের এক নেতার নির্দেশনায় এক ভ্যানচালকের সাহায্যে এই মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে তিনি সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ইমনের বিরুদ্ধে এর আগেও ডিএমপির শাহবাগ ও লালবাগ থানায় দুটি মামলা রয়েছে।
এমএইচ
