শৃঙ্খলা না মেনে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০১:০০ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০২:২৮ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে বা পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত কঠোর ভূমিকা পালন করবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে 'পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬' উপলক্ষে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের কেউ কেউ এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা এবং গোপনে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার সুনির্দিষ্ট খবর সরকারের কাছে রয়েছে।
তিনি কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশের পদ যাই হোক না কেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না। পতিত সরকার পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের সংশোধনের এবং জনআস্থা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কেউ ইনডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত করতেও সরকার পিছপা হবে না।
পুলিশের তৃণমূল থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনপ্রত্যাশা পূরণের জন্য সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে। এখন থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের পাশাপাশি কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা বা লঘুদণ্ড-গুরুদণ্ডেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না; সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য সরাসরি ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ‘গুড ফেইথ’ বা সরল বিশ্বাসে কোনো ছোটখাটো ভুল হলে তা সেভাবেই বিবেচনা করা হবে।।
জনবান্ধব পুলিশ গড়ার প্রত্যয়জনগণ এখন আর পুলিশের 'রাজা-বাদশার মতো আচরণ' দেখতে চায় না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই, যা দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক এবং জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হবে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের এমন কোনো কাজ না করার নির্দেশ দেন যা জনগণের চোখে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক, লেজিসলেটিভ এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ—এই তিন ধরনের সহায়তার মাধ্যমে পুলিশের ইমেজ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনআস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার।
অপরাধের ধরন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশে স্বতন্ত্র 'সাইবার ইউনিট' চালু করা হচ্ছে। প্রয়োজনে শর্ট কোর্সের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে দ্রুত জনবল নিয়োগসহ পুলিশের সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে কৃতি পুলিশ সদস্যদের হাতে পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পদকপ্রাপ্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পদক শুধু কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, এটি আরও বড় দায়িত্বের অঙ্গীকার। দায়িত্ব পালনে তাদের আরও বেশি সততা, সাহস ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে।
এমএইচ
