তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত মতামত আহ্বান
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৯:১৯ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:২৩ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, গঠন প্রক্রিয়া ও রূপরেখা নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ আহ্বান করে তিনি জানান, উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেটি জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিবেচিত হবে, জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে।
জুলাই জাতীয় সনদে এ সংক্রান্ত কিছু স্পষ্ট প্রস্তাবনার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমত বা 'নোট অব ডিসেন্ট'-ও রয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ কোন ধাপে কীভাবে এই সরকার কাঠামো রূপ পাবে, সে বিষয়ে বহুমুখী বিকল্প উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে গণমাধ্যম সেক্টরের একটি বিস্তৃত প্রতিনিধি দলের সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ করা হয়। এর আগে সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতামত শুনলেও দীর্ঘ আলোচনার পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করতে দুই ধাপে এই মতবিনিময় পর্বের আয়োজন করা হয়।
পর্যায়ক্রমে বিশিষ্টজন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক ও বর্তমান বিচারক এবং গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা-নিপীড়নের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এর পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশীদার ও শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও সরাসরি পরামর্শ সংগৃহীত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবাদ সম্মেলনে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশের মতো এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের যৌক্তিকতা নিয়ে মতভেদ তৈরি হলেও তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই জাতীয় সনদের ঐক্যমত্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের পথেই অগ্রসর হতে চান।
তবে আইনসভা বা সরকারি দল এ বিষয়ে ভিন্ন কোনো উপযুক্ত সংশোধন আনলে সেটিও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিবেচনার সুযোগ থাকবে। বৈঠকে এর পাশাপাশি বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা বিধান, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে বাদ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশগ্রহণের জোর আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত 'একক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না'—সংক্রান্ত নীতিগত প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে গঠিত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন রোধে তাদের অবস্থান অনড় হলেও সংসদে সব বিকল্প রাজনৈতিক প্রস্তাব আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুতের পর তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে এবং সংসদীয় কাঠামোর ভেতর ও বাইরে ব্যাপক জনমত যাচাইয়ের মাধ্যমে একটি সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী রূপ নেবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এমএইচ
