ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ১৫ ১৪৩৩

জানা গেলো পাকিস্তানের আকাশসীমায় জটিলতার কারণ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:৩৭ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৭:৪০ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত সময়ে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে না পৌঁছানোর ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে পাকিস্তান।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, আকাশসীমা ব্যবহারের ক্লিয়ারেন্স না দেওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। এটি মূলত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল প্রটোকল এবং কারিগরি ব্যবস্থার একটি অংশ।

বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং বিশেষ প্রটোকলের বিষয় হওয়ায় আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দেশের কাছ থেকে আলাদা করে ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কমিশন বা রোসাটম সূত্রে জানা গেছে, সময়মতো আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর প্রকল্পের ইউরেনিয়াম সরবরাহের ফ্লাইটসূচি বাতিল করতে হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেনি।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার বিবিসি উর্দুর কাছে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

তিনি জানান, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়মের প্রতি দায়বদ্ধ। তারা তাদের প্রতিষ্ঠিত নির্দেশিকা ও বেসামরিক বিমান চলাচল প্রটোকলের সাথে সম্পূর্ণ সংগতি রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক ফ্লাইট এবং ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের সমস্ত আবেদন প্রক্রিয়া করে থাকে।

বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং কারিগরি কারণে মাঝেমধ্যে ফ্লাইটসূচি পরিবর্তন হতে পারে।

সাজ্জাদ হায়দার আরও উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি ফ্লাইট রুট এবং আকাশসীমা অনুমোদনের সাথে সম্পর্কিত কারিগরি ও পদ্ধতিগত ব্যবস্থার সাথে জড়িত। যার জন্য মাঝেমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।

তাই এই বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে না দেখে সঠিক কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখাই শ্রেয়। অপ্রয়োজনীয় কোনো প্রচারণায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খাটো করা সমীচীন হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়ামের সরবরাহ না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের মুখে এই বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে চাচ্ছিল বাংলাদেশ।

রাশিয়ার ঋণ ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু করার কথা থাকলেও করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সরবরাহ চেইনের জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং শুরু হলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে এখনো বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এমএইচ