জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৭:০২ পিএম, ২ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৭:০৭ পিএম, ২ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মাথায় জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডিএমপির ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ডিবি সদস্যরা তার বাসায় অবস্থান করছেন এবং তিনি নামাজ পড়েই তাদের সঙ্গে যাবেন।
আজ সকালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় এই মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ১০ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি দল সপরিবারে ঢাকায় ফেরেন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি পেতে ভোগান্তি তৈরি হলে কর্মীদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের অনুরোধে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে আসেন। তখন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান এবং হুমকিসূচক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। পরে সংসদ সদস্য নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
বিমানবন্দরের কেপিআই-ভুক্ত সংরক্ষিত এলাকায় আখতারুজ্জামানের সঙ্গীরা ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করেন।
তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধির সঙ্গেও উগ্র আচরণ করেন এবং সাধারণ যাত্রীদের ট্রলিতে রাখা জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে দেন। এছাড়া তার সঙ্গীরা এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
কেপিআই-ভুক্ত ও স্পর্শকাতর এলাকায় সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি, অশালীন আচরণ এবং নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডিবি পুলিশ এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
এমএইচ
