হেলমেট ছুড়ে ফেলা, বিচারককে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য আখতারুজ্জামানের
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:৪৭ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ১০:৪৮ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
প্রিজন ভ্যান থেকে নামার সময় হেলমেট ছুড়ে ফেলা, আদালতে শুনানিতে বিচারককে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য, আদালতের সামনে স্লোগান দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে আবারও আলোচনা তৈরি করেন জামায়াত ইসলামীর নেতা আখতারুজ্জামান।
গ্রেপ্তারের পর আজ শনিবার নেওয়া হয় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে। এ সময় তিনি এ রকম আচরণ করেন।
আখতারুজ্জামান আদালতকে হেয় করে বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।
পিপি বলেন, আদালত তাঁকে শান্ত হতে বলছিলেন। তবুও তিনি বারবার বলতে থাকেন যে তিনি এভাবেই চলবেন, দেখে নেবেন কে কী করে।
অবশ্য আখতারুজ্জামানের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবীর দাবি, তিনি আদালতে সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন।
আখতারুজ্জামানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে শনিবার আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম। অন্যদিকে তাঁর আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে আখতারুজ্জামানকে প্রিজন ভ্যানে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সামনে নেওয়া হয়। তখন প্রিজন ভ্যান থেকেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের মিস ম্যানেজমেন্ট আর চলতে পারে না। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। এ রকম অবস্থায় কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না।’
আখতারুজ্জামান যখন নানা কথা বলছিলেন, তখন একজন পুলিশ সদস্য প্রিজন ভ্যানে প্রবেশ করেন। তিনি আখতারুজ্জামানের হাত ধরে বের করতে গিয়েছিলেন। বলছিলেন, ‘স্যার, এদিকে আসেন, প্লিজ এদিকে আসেন’। তখন তাঁকে উদ্দেশ করে আখতারুজ্জামান উচ্চস্বরে বলেন, ‘হাত ধরবেন না, সাবধান’, “ডোন্ট টাচ মি”’, যা বলবেন মুখে বলবেন।’
প্রিজন ভ্যানের ভেতরে আখতারুজ্জামানের হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরান পুলিশ সদস্যরা। প্রিজন ভ্যানের দরজা থেকে বের হওয়ার সময় আখতারুজ্জামান মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলেন। ওই সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আওয়ামী লীগের না।’
আখতারুজ্জামানকে মাথায় হেলমেট ছাড়াই আদালতে নেওয়া হয়। এজলাসে ওঠানোর সময় তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ , ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন। বাইরে তখন জামায়াতের নেতা–কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আখতারুজ্জামানকে লিফটে আদালত ভবনের ৮ তলায় নেওয়া হয়। শুনানি চলাকালে আদালতে কোনো সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি–সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
এএইচ
