ঢাকা, সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ১৯ ১৪৩৩

বাড়ল এলপিজি গ্যাসের দাম

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:২৫ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ০৫:৪০ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার

দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক ধাক্কায় বিপুল পরিমাণে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে প্রতি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

এর আগে সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা হ্রাস করে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। তারও আগের মাসে এই সিলিন্ডারের বাজারমূল্য ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে দাম কিছুটা কমলেও অক্টোবরের শুরুতেই তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেল।

এদিকে সরকার ঘোষিত নতুন এই দাম বাজারে কার্যকর করা এবং কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে দেশজুড়ে কঠোর তদারকি শুরু করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৬টি জেলায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিষ্ঠানে এই তদারকি চালানো হয়।

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল এই অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, কেনাবেচার রসিদ বা ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার রাখার মতো বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এসব অপরাধে ৩৯টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখা এবং সিলিন্ডার গ্যাসের সরবরাহ সচল রাখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। কোনো বিক্রেতা যাতে সিলিন্ডার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গ্যাস সিলিন্ডার কেনাবেচায় কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের শিকার হলে সাধারণ ভোক্তাদের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। এর জন্য ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বর ১৬১২১-এ কল করে অভিযোগ দায়ের করা যাবে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী দিনগুলোতেও এই ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এমএইচ