বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের রয়েছে নিশ্চয়তা ও সম্ভাবনা: ম
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৬:২৬ পিএম, ৫ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও অগ্রগতি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সোমবারা (৫ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর তৃতীয় দিনে একটি বিশেষ সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দীর্ঘ সময় পর জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ফলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণরূপে দায়বদ্ধ।
মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয়গুলো সরাসরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও সরকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সাথে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান যেন মিয়ানমারেই হয়, সেই চেষ্টা চলছে। একই সাথে বাংলাদেশে আশ্রিত ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা সচল রাখার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের দ্রুত অগ্রগতির এই যুগে দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। প্রযুক্তির বিবর্তনে কর্মসংস্থান হারানোর যে ঝুঁকি রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন এবং বাজার চাহিদানুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশের বিশাল জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পরিবেশগত সংকট ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও সার্বিক পানি ব্যবস্থাপনার জন্য ঐতিহাসিক পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
ভবিষ্যতের বৈশ্বিক আর্থিক ধাক্কা বা অর্থনৈতিক সংকট থেকে নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার কথা জানান মাহদী আমিন। বর্তমানে নারীদের সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য ফার্মার কার্ড চালু রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালুর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি সমন্বিত ইউনিভার্সাল কার্ড চালু করা, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষা পাবেন।
তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার বড় ধরনের জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের সুরক্ষায় ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী কর্মী। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিবেদিত কর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জ্বালানি খাতের সংকট দূর করতে এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে। তেল, গ্যাস কিংবা বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বহুমুখী উৎসের দিকে যাওয়ার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক স্তরে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যার মূল ভিত্তি হলো সবার আগে বাংলাদেশ। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবাধ যাতায়াত ও সমুদ্র নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলোতে সর্বোচ্চ আঞ্চলিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যেকোনো বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
এমএইচ
