ঢাকা, বুধবার   ০৭ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ২২ ১৪৩৩

প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কাটলো আইনি বাধা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৩:৪৯ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:৫০ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার

এমপিওভুক্ত হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়ে তৈরি আইনি জটিলতা আপাতত কেটে গেছে। হাইকোর্টের দেয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হকের বেঞ্চ।

ফলে প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করার সুযোগ দিয়ে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে। ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিতব্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনটিআরসিএর পক্ষে করা আপিলের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন।

সরকারের চলতি বছরের ২৫ মার্চের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার সময়সীমা ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনটিআরসিএর পক্ষে আপিল করা হয়। মঙ্গলবার শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে প্রধান শিক্ষক পদে মোট ১০ হাজার ২৭৮টি শূন্য পদ ছিল।

এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ ও সুপার পদে প্রায় ১৫০টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারসহ বিভিন্ন পদে মোট ৩ হাজার ১৩১টি শূন্য পদ ছিল। সব মিলিয়ে ওই সময় শূন্য পদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৫৫৯টি। 

চেম্বার আদালতের মঙ্গলবারের আদেশের ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিনের শূন্যতা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া বিলম্ব নিরসনের পথ সুগম হয়েছে। ফলে ৪৬ জন রিট আবেদনকারীর জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণ রেখে বাকি শূন্য পদগুলোতে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি রিট আবেদনকারী ৪৬ জনের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে ওই ৪৬টি পদ বাদে অবশিষ্ট শূন্য পদগুলোতে নিয়োগপ্রক্রিয়া সরকার সম্পন্ন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে আর কোনো আইনগত বাধা থাকবে না।

এমএইচ