রোহিঙ্গা সংকটে টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:১৫ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:৪৪ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার
দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল মানবিক সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অনিয়মিত অভিবাসনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সাথে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও সসম্মানে নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশবিষয়ক যুক্তরাজ্যের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ার ও ব্রিটিশ এমপি আফসানা বেগমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিনিধিদলে হাউস অব লর্ডসের সদস্য শওকত আদম এমপি ও লর্ড কুরবান হুসেইন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং চলমান সংস্কার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের অব্যাহত সমর্থনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।
হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে এপিপিজি। বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতি ও বাস্তব চিত্র বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাথে আরও নিবিড় যোগাযোগ তৈরিতে তিনি এই প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা কামনা করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলটি আগামীকাল বুধবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাবে। সাক্ষাৎকালে তারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে মানবিক সহায়তা বজায় রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টসহ আন্তর্জাতিক সব ফোরামে সোচ্চার থাকার আশ্বাস দেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অভিবাসন জটিলতা নিরসন, দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান এবং মানবাধিকার রক্ষার মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করে দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।
এমএইচ
