ঢাকা, বুধবার   ০৭ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ২২ ১৪৩৩

ভারতে বিক্ষোভ, তৃতীয়বারের মতো আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:০০ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিরোধী জোট 'ইনডিয়া'র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লি। 

বুধবার দুপুরে মধ্য-দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজের পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে জোটের সংসদ সদস্যরা পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে বিরোধী সংসদ সদস্যরা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে যন্তর-মন্তরের দিকে রওনা হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ আটকে দেয় এবং রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের বাসে তুলে হেফাজত নেওয়ার চেষ্টা করে।

পুলিশের এই অ্যাকশনের পর পরিস্থিতি আরও নাটকীয় রূপ নেয়। ইনডিয়া জোটের নেতারা বাস থেকে নেমে আবারও রাস্তায় বসে পড়েন এবং এলাকা ছাড়ার বিষয়ে পুলিশের দেওয়া আলটিমেটাম উপেক্ষা করেন। একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাস্তায় শুয়ে পড়ে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানান। দীর্ঘক্ষণ টানা-হেঁচড়া ও বাদানুবাদের পর পুলিশ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে যায়। 

পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর-মন্তরে যেকোনো ধরণের বিক্ষোভের জন্য অন্তত ১০ দিন আগে ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের অনুমতি নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও কংগ্রেস বা অন্য কোনো দল এই কর্মসূচির জন্য কোনো পূর্বানুমতি নেয়নি।

আটকের আগে রাহুল গান্ধী গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় ৩০০ জন বিরোধী সংসদ সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে সেখানে বিক্ষোভ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মিলে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন এবং জ্ঞানেশ কুমার বিরোধীদের কাছে কোনো বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবারও নির্বাচন কমিশনের সদরদপ্তরের দিকে যাওয়ার সময় আকাশবাণী ভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। মঙ্গলবারের ওই অবস্থান কর্মসূচির কারণে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (মামলা) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। এ প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা রয়েছে এবং তিনি দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলে নিজের বিরুদ্ধে অন্তত ১০০টি মামলা দেখতে চান।