ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ২২ ১৪৩৩

বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকার মারা গেছেন

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৫০ এএম, ৮ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা ও নির্মাতা নানা পাটেকার মারা গেছেন। 

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ভোর ৫৬টা ২০ মিনিটের দিকে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে বরেণ্য এই অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা সেখানে তাকে দীর্ঘ প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালান। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।

বার্তা সংস্থা এএনআই-কে এ তথ্য জানান মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার।

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্ম নান পাটেকারের। তার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। 

সুদীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে নিখুঁত অভিনয়শৈলী ও দাপুটে সংলাপ পরিবেশনের জন্য দর্শক হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন নানা পাটেকার। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত এই কিংবদন্তি ‘নটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘আব তাক ছাপ্পান’ এবং ‘যশোবন্ত’-এর মতো অসংখ্য সফল সিনেমায় অভিনয় করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন নানা পাটেকার। তার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার।

পরবর্তীতে ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘আব তাক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) এবং ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ (২০০৬) সিনেমায় তার দুর্দান্ত অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। বাণিজ্যিক ধারার কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) এবং এর সিক্যুয়াল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এ গ্যাংস্টার ‘উদয় শেট্টি’ চরিত্রে অভিনয় করে সিনেপ্রেমীদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। 

এ ছাড়া জনপ্রিয় রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ (২০১০) সিনেমায় দুর্দান্ত পার্শ্ব চরিত্রের জন্য পঞ্চমবারের মতো ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার মনোনয়ন পান তিনি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সাড়া জাগানো মারাঠি ছবি ‘নটসম্রাট’-এ অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয় করেন নানা পাটেকার। পরবর্তীতে কমেডি থ্রিলার ‘হাউসফুল ৫’ চলচ্চিত্রেও পার্শ্ব চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাকে।

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীত জগতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন এই বহুমুখী অভিনেতা। ‘যশোবন্ত’ (১৯৯৭), ‘ওয়াজুদ’ (১৯৯৮) এবং ‘আঁচ’ (২০০৩) সিনেমায় নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী (প্লেব্যাক) হিসেবে গান গেয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি।

এএইচ