বিষাক্ত চেতনানাশক স্প্রেতে অসুস্থ একই পরিবারের ১৫ জন হাসপাতালে
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:১৫ এএম, ৮ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দুর্বৃত্তদের প্রয়োগ করা বিষাক্ত চেতনানাশক স্প্রেতে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের দামোদরকাটি গ্রামের দাউদের বাড়িতে পর্যায়ক্রমে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ ব্যক্তিরা হলেন—পারভীন খাতুন, আবু দাউদ, সিনথিয়া, আবু রায়হান, হাফিজুর রহমান, মেছের আলী, ছকিনা খাতুন, রিপন হোসেন, আছমা খাতুন, মমতাজ বেগম, মেহনাজ, খালিদ হোসেন, সিয়াম হোসেন, শামীমা খাতুনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে আবু দাউদ, রিপন ও পারভীন খাতুন বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন। এ সময় তারা হঠাৎ মাথা ঘুরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করে কলারোয়া হাসপাতালে নিয়ে যান।
এর পরপরই দিনজুড়ে ওই পরিবারের অন্য সদস্যরাও একের পর এক অসুস্থ ও অচেতন হতে থাকেন। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোট ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় সক্রিয় সংঘবদ্ধ চোর ও কিশোরগ্যাং চক্র চুরি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সুযোগ বুঝে এ ধরনের বিষাক্ত স্প্রে প্রয়োগ করছে। কয়েক দিন আগেও একই গ্রামে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে দুটি মোটরসাইকেল এবং একটি ইজিবাইক চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “চেতনানাশক বিষাক্ত স্প্রেতে আক্রান্ত হয়েই রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে কলারোয়া থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
এএইচ
