ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ২৩ ১৪৩৩

পানিবণ্টনে ভারতের কাছে ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০২:০৩ পিএম, ৮ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ভারতের সঙ্গে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চটা আদায় করতে চাইবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিবণ্টনের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। পাশাপাশি আলোচনার টেবিলে দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাও বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে।

দুই দেশের পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা ভারতের কাছে নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন। এখন আমাদের তাদের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে।’

ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগির এ বিষয়ে জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী দফার পানিচুক্তি নবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।’

কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই এসব বিষয় সমাধান করতে হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। 

১৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানে কথাবার্তা ও আলোচনা চলছে এবং চলবে। আমাদের অবস্থান থেকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। যদি নেতৃত্বের মানসিকতা থাকে যে তারা এগিয়ে এসে সহযোগিতা করবে, তবে আমরা অবশ্যই এই সমস্যার একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধান পাব।’

পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান বাংলাদেশের অন্যতম ভিত্তি বলেও জানান তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আলোচনা, ডায়ালগ এবং কূটনীতির মাধ্যমেই কেবল এই বিষয়গুলো সমাধান করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক আইনের যে অবস্থানগুলো রয়েছে, সেগুলোকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। 

দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

দেশের ভবিষ্যৎ সংকট ও বিষয়গুলো মোকাবিলায় প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা অতীত বা সাধারণ ধারার মতো কাজ না করে গুণগত উপায়ে দেশের ভবিষ্যতের সংকট ও বিষয়গুলো মোকাবেলা করতে চাই।’

এএইচ