মিরপুরে লেগুনা স্ট্যান্ড দখল, গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবির অভিয
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৩:১৭ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার
রাজধানীর মিরপুরে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি এবং মালিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইয়াকুব আলী বলেন, গত ৫ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহাব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, শামীম ও মজিবর রহমানসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন ব্যক্তি স্ট্যান্ড দখল এবং ফুটপাত থেকে চাঁদা দাবির সঙ্গে জড়িত বলে তাদের অভিযোগ।
মিরপুরে লেগুনা স্ট্যান্ড দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সংবাদ সম্মেলন
রাজধানীর মিরপুরে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, প্রতিটি গাড়ি থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দেওয়ায় মালিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন।
আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী এই অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লেগুনা স্ট্যান্ডে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় একদল সন্ত্রাসী। তারা চালক ও লাইনম্যানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্ট্যান্ডগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। এই দখলদারত্বের পেছনে ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর অনুসারী ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহাব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়াসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন জড়িত রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্ট্যান্ডগুলো দখলে নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি লেগুনা থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এই অনৈতিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় লেগুনা মালিক ইয়াকুব আলী, নজরুল ইসলাম ও বাবুলের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত সভাপতি ইয়াকুব আলীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার চিকিৎসার যাবতীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট সংগঠনের কাছে সংরক্ষিত আছে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলা হয়, এই হামলার বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দারুস সালাম থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। এর আগে ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে সাজানো চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি আদালত থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পান।
লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জানান, তাদের কাছে স্ট্যান্ড দখল ও হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও চিত্র এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। যেকোনো নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থার কাছে তারা এসব প্রমাণ উপস্থাপন করতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশকে দ্রুত মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া এবং সাধারণ চালক ও মালিকদের নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানোর পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এমএইচ
