বগুড়ায় সুখের খামার এগ্রো ভিলেজের নির্মাণকাজের উদ্বোধন
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৭:০৯ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিট ভিত্তিক এগ্রো টুরিজম প্রকল্প ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ, বগুড়া’-এর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে বগুড়ার কাহালু উপজেলার বাগইল গ্রামে বাঁকাদিঘীর পাড় এলাকায় প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মনিয়া খানম, কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আব্দুল মালেক এবং উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রকল্পের সম্মানিত শেয়ারহোল্ডার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের লক্ষ্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরে সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। এগ্রো ট্যুরিজম এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এখানে কৃষক শুধু ফসল বিক্রি করেন না, বরং কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিজ্ঞতাকেও পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারেন। স্মার্ট কৃষিই হতে পারে বাংলাদেশের কৃষি খাতের পরবর্তী অগ্রযাত্রার অন্যতম ভিত্তি, আর ‘সুখের খামার’ সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি উদ্যোগ।’
প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম বলেন, ‘এক বছর আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আজ তার বাস্তব প্রতিফলন তুলে ধরছি। খামারের কার্যক্রম চলছে, ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি অতিথি ঘুরে গেছেন এবং আমাদের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে একটি গ্রামে এক কোটি টাকার নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়েছে। আমরা মাটি থেকে শুধু ফসল নয়, ভবিষ্যৎও ফলাতে চাই। ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ’-এর পরিকল্পনা সেই ভবিষ্যতেরই একটি প্রতিচ্ছবি। গ্রামীণ পর্যটনের প্রসারেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ত্রয়োদশ Asian Tourism Fair 2026-এর মঞ্চে সুখের খামার এগ্রো লিমিটেড-এর পরিকল্পিত নকশা উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেড় শতাধিক অংশীদার দলিলও বুঝে পান।
সুখের খামারের উন্মোচিত এই নকশায় রয়েছে ১০০ রুমের এগ্রো রিসোর্টে রেস্টুরেন্ট, কনভেনশন হল, সুইমিং পুল, বোটিং সুবিধাসহ নানান সুবিধা। রিসোর্টের পাশেই একই আঙিনায় থাকছে সমন্বিত কৃষি খামার, ৪০০ গরুর খামার, বটম ক্লিন পদ্ধতির মাছের খামার, ছাগল ও দুম্বার খামার, ১ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং একটি জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা।
প্রকল্পের মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি অক্টোবর মাস থেকে পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে শরীয়াহভিত্তিক মুশারাকা মডেলে। ইতোমধ্যে ২১টি দেশ ও ৪২টি জেলার এক হাজারের বেশি মানুষ প্রকল্পটির অংশীদার হয়েছেন এবং প্রত্যেক অংশীদারের নামে জমি রেজিস্ট্রেশন করে ২৫ জুলাই ২০২৬ ফাউন্ডার নাইট নামের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দলিল হস্তান্তর করা হয়।
এএইচ
