বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের দায়ে আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:১৪ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার
রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলায় মো. ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।
রায়ের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডিত মো. ফারুক হোসেন পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহমদ খাঁর ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ড দেন।
আদালত ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। ফারুক হোসেনের বর্তমান সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তাঁর অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এ ছাড়া তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রি করে অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর গর্ভজাত সন্তান রাফিউল হোসেনের জৈবিক পিতা হিসেবে ফারুক হোসেনের পরিচয় প্রমাণিত হওয়ায় সন্তানটি তাঁর কাছ থেকে আইনগত অধিকার পাবে। সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভরণপোষণের ব্যয় বহনের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
এ ব্যয় রাষ্ট্র বহন করলে পরে তা আসামির কাছ থেকে আদায় করা যাবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে পাংশা থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। পরে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
উল্লেখ্য, জামিন পাওয়ার পর থেকে ফারুক হোসেন পলাতক রয়েছেন।
এএইচ
