ঢাকা, রবিবার   ১১ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ২৬ ১৪৩৩

রূপপুরে প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:০৭ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার

দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বা ক্রিটিক্যালিটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল ও চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল। রোববার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন এই ঐতিহাসিক অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পারমাণবিক চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে এই বিক্রিয়া শুরু হয়।

এই বিক্রিয়া থেকে প্রাপ্ত তাপ ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানো মাত্রই তা পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বা গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। সব কারিগরি পরীক্ষা সফল হলে আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর শেষ নাগাদ এই পরমাণু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা বায়রা দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন বা বি-টু লাইসেন্স দেয়।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর কঠোর গাইডলাইন অনুসরণ করে রাশিয়ার সহায়তায় এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষায় কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দিলেও, রুশ ও দেশীয় প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় তা সফলভাবে সমাধান করা হয়। ফলে পরবর্তী ধাপের কাজগুলো দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের এই প্রথম ইউনিটটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হওয়া মাত্রই বিশ্বমঞ্চে ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখাবে বাংলাদেশ।

তবে গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ দেওয়ার পরও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস চুল্লির সার্বিক নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপরই এটি পূর্ণ সক্ষমতায় নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

এমএইচ