ঢাকা, রবিবার   ১১ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ২৬ ১৪৩৩

মরিয়মের আত্মহত্যা মামলায় ফের এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:০২ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় আবারও আবেদন করেও জামিন পাননি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। 

রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত তার এই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগেও একই মামলায় সংসদ সদস্য নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন আদালত। ওই শুনানিতে আসামিপক্ষ থেকে মরিয়মের পরিবারের সাথে সমঝোতার কথা উল্লেখ করে একটি আপসনামা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করে আদালতকে জানায় যে আত্মহত্যার প্ররোচনার মতো গুরুতর মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কোনো আইনি সুযোগ নেই।

আগের শুনানির পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছিলেন যে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মকে প্রলুব্ধ করে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। দেশের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত একজন সংসদ সদস্যের সরকারি বাসভবনে আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আপসনামা বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়া হলে সমাজে আইনের প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে মরিয়মের বাবা ও মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ আগে জানিয়েছিলেন যে তিনি তার মেয়ের মৃত্যুর সঠিক বিচার চান। তবে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে তিনি আপসনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন। মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি তার শ্যালক তথা মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে বেশি দায়ী করেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে অবস্থিত ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন। 

মামলায় নজরুলকে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা জামিন পেলেও নজরুলের আবেদন নাকচ হয় এবং আজ দ্বিতীয়বারের মতো আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করলেন।

এমএইচ