চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগ, শিক্ষক-কর্মচারীদের সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোল
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৭:১২ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগের প্রতিবাদে এবং পূর্বঘোষিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থেকে পূর্ণ কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তিনটি সংগঠন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চুয়েটের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে অসহযোগ আন্দোলনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে চুয়েটকে অচল রাখার এই ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
যৌথ বিবৃতিতে শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা উল্লেখ করেন, বহিরাগতদের সহায়তায় নবনিযুক্ত উপাচার্যের আকস্মিক ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দপ্তরে বসার ঘটনাকে তাঁরা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানাচ্ছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুয়েট ক্যাম্পাসে যদি কোনও অপ্রীতিকর বা উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার উপাচার্যকেই বহন করতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রধান দাবি হলো—শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অপসারিত সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় তাঁর পদে পুনর্বহাল করা এবং বর্তমান উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও অসহযোগ আন্দোলন অবিরাম চলবে বলে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন ও শাটডাউনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এমএইচ
