ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ২৭ ১৪৩৩

কুমিল্লায় তাজনিম হত্যা: কক্সবাজারে আটক কথিত প্রেমিক রাজু কারাগারে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:১৩ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:৩০ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার

কুমিল্লার জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে কক্সবাজার থেকে আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

সোমবার সন্ধ্যায় ৫৪ ধারায় কক্সবাজার পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠায়।

রাজু বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার মনির আহমেদের ছেলে। তিনি কক্সবাজার শহরের কলাতলি এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে বয় হিসেবে চাকরি করেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, কুমিল্লা পুলিশের অনুরোধে রাজুকে রোববার রাতে আটক করা হয়। পরে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে রাজুকে হস্তান্তর করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুনরায় রাজুকে থানায় এনে হস্তান্তর করে চলে যায় কুমিল্লা পুলিশ। 

পরে সন্ধ্যায় ৫৪ ধারায় কক্সবাজার পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান ওসি।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয়।

আটক রাজু নিহত তাজমিনের কথিত প্রেমিক উল্লেখ করে ওসি আরও বলেন, আটক হওয়ার আগে জাতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন রাজু।

রাজু জানান, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে সম্পর্ক হয় রাজুর। এক পর্যায়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে কক্সবাজার পৌঁছে তাজমিন। পরে ওই দিন তারা কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে উঠেন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে। পরদিন দুপুরে একা কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় তাজমিন।

এর আগে, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স ভাড়া বাসা থেকে বের হয় ওই কিশোরী। পরে ৭ অক্টোবর দিনগত রাত ১২টা ১৯ মিনিটের সময় তাকে সবশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা গেছে। ওইদিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে তার লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলে একটি বার্তা দেয়। তখন বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তিনি বার্তাটি দেখতে পাননি।

পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে ওই দিন লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় অটোরিক্সা চালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে যে, ধর্ষণ ও পরে তার হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তাজমিন।

এএইচ