গ্রাম পুলিশদের নিয়ে ৭ নভেম্বর মহাসমাবেশ, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৩:৩২ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজধানীর সাবেক বাণিজ্যমেলার মাঠে গ্রাম পুলিশদের নিয়ে মহাসমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার। এতে সারা দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার গ্রাম পুলিশ অংশ নেবেন। সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত গ্রাম পুলিশদের নিয়ে সরকারিভাবে মহাসমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সমাবেশ করে মন্ত্রী ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। পরে সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিন্তা করেছেন, সরকারিভাবে তাদের ডেকে এনে সরাসরি তাদের কথা শুনবেন।
তারেকে রহমান বলেন, একদম তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর যারা রাখেন, পুলিশকে সহায়তা করেন, ইউনিয়ন পরিষদকে সহায়তা করেন, সেই গ্রাম পুলিশদের কথা সরাসরি শুনতে চাই। তাদের দাবি-দাওয়াগুলো শুনে যতদূর সম্ভব সরকারের সামর্থ্যের মধ্যে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৭ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সাবেক বাণিজ্যমেলার মাঠে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ রয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের আইনগত ক্ষমতা, বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।
তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশের ক্ষমতা ও দায়িত্ব আইন দ্বারা নির্ধারিত। তবে তাদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকদের (ডিডিএলজি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, তাদের আইনগতভাবে ক্ষমতা বৃদ্ধি, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি বা অন্যান্য কী কী করা যায়, এসব বিষয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রস্তাব দিতে ডিডিএলজি সাহেবদের নির্দেশনা দিয়েছি। প্রস্তাব পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপে উপস্থাপন করবে। তিনি যেসব বিষয় অনুমোদন করবেন, সেগুলো সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সমাবেশে গ্রাম পুলিশরা নতুন কোনো দাবি তুলে ধরলে সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, মহাসমাবেশস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সহযোগিতা করবে।
এমএইচ
