সৌদিতে হুথির জোরালো হামলা, কঠিন পরীক্ষায় ট্রাম্প সরকার
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৬:১৮ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার
সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে হোয়াইট হাউজ। ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবকে রক্ষা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা বাড়ানোর কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন।
সপ্তাহান্তে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে হুথিদের এক ভয়াবহ হামলায় একজন মার্কিন নাগরিকসহ অন্তত ১৬ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। কয়েক দশকের মধ্যে এটি সৌদি আরবের মাটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে।
এতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মূলত সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য, লক্ষ্যবস্তু চেনা এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মতো পরোক্ষ সহায়তা দিয়ে আসছিল। তবে এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসন বিবেচনা করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এই মুহূর্তে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর পক্ষে কোনো জনসমর্থন নেই। উপরন্তু, সরাসরি হামলা চালালে হুথিদের সাথে থাকা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য এক রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনায় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এই অবস্থায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম আরও আকাশচুম্বী হতে পারে। সামনে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় মূল্যস্ফীতির এই চাপ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে ভোটের মাঠে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
আমেরিকাসহ পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সামরিক ও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা না পেয়ে রিয়াদ বেশ হতাশ। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব এখন আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় অংশীদারদের পাশাপাশি তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো নতুন প্রতিরক্ষা মিত্রদের কাছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সরঞ্জাম চাইছে। তবে এসব দেশ প্রতিরক্ষামূলক সহায়তার আশ্বাস দিলেও তুরস্কের মতো দেশ সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ না নেওয়ার কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি চরমে পৌঁছানোয় মার্কিন প্রশাসন তাদের নাগরিকদের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এবং মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সৌদি আরবের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারে বিশেষ অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, ওয়াশিংটন যদি হুথিদের দমাতে ইরানে বা ইয়েমেনে সরাসরি বোমাবর্ষণ শুরু করে, তবে এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়বে। সব মিলিয়ে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর এক ত্রিমুখী কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
