ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৫ অক্টোবর ২০২৬,   আশ্বিন ৩০ ১৪৩৩

জ্বালানি ভর্তুকি হ্রাস ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আইএমএফের তাগিদ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:২১ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করে, ঢালাওভাবে সব খাতে সর্বজনীন জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়া কিংবা কৃত্রিমভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী রাজস্ব পদক্ষেপ নেওয়া বেশি জরুরি।

সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই নীতি বাস্তবায়ন করা না হলে মূল্যস্ফীতি লাগামহীন হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অতিরিক্ত বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের অংশ হিসেবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর)  কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে 'এশিয়া-প্যাসিফিক রিজনাল ইকোনমিক আউটলুক' শীর্ষক এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে আইএমএফের এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন, ডেপুটি ডিরেক্টর সোনালি জেইন চান্দ্রা এবং কমিউনিকেশন অফিসার পাভিস দেবাস্বাদি উপস্থিত ছিলেন। গত ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বর্তমানে তিনটি বড় বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে—মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা থেকে তৈরি জ্বালানি সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির বিকাশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর ধারাবাহিক পুনর্গঠন। যদিও এই অঞ্চলের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে ধাক্কা সামলে টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছে, তবে এর সুফল সব দেশ বা খাতের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলো ব্যাপক লাভবান হলেও অন্যান্য খাত পিছিয়ে রয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় পরীক্ষা।

বিশ্বের বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশগুলো তাদের মজুত জ্বালানি ব্যবহার ও বিকল্প উৎসের সন্ধান করে তেলের দামের ধাক্কা কাটিয়ে উঠছে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের, কৃষিপ্রধান এবং দ্বীপরাষ্ট্রগুলো তীব্র সংকটে পড়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও সারের আকাশচুম্বী খরচের কারণে এসব দেশের সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে এবং সরকারি কোষাগারে টান পড়ছে। তবে সেমিকন্ডাক্টর ও এআই অবকাঠামোর বৈশ্বিক চাহিদার কারণে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রপ্তানি ও বিনিয়োগের পালে হাওয়া লেগেছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কতটা স্থায়ী হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন জানান, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের চেয়ে ভালো হয়েছে। আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৫ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে, যা পূর্বের অনুমিত ৪ দশমিক ৪ শতাংশের চেয়ে বেশি। প্রযুক্তি খাতের কল্যাণে চীন, ভারত, জাপান, কোরিয়া এবং আসিয়ানভুক্ত দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। বিপরীতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভুগতে থাকা প্রযুক্তি-বঞ্চিত নিম্ন আয়ের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আইএমএফ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে জ্বালানির বাজার চড়া থাকতে পারে। পাশাপাশি এআই বিনিয়োগে কোনো বিপর্যয় ঘটলে তা এশিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় আঘাত হানবে। এছাড়া 'এল নিনো'র মতো জলবায়ু বিপর্যয় কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত করে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখতে হবে। একইসঙ্গে রাজস্বনীতিতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করে কেবল ঝুঁকিতে থাকা দরিদ্র পরিবারগুলোকে সুরক্ষার আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

এমএইচ