হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:০৮ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১০:১৩ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালিতে একটি বড় পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজ ডুবে গেছে। জাহাজটি তলিয়ে যাওয়ার পর সাগরের পানিতে বিপুল পরিমাণ আইফোনের বাক্স এবং দামি সুগন্ধির প্যাকেট ভাসতে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা ছোট ছোট নৌকা নিয়ে সাগরে ভাসমান এসব দামি গ্যাজেট ও পণ্য সংগ্রহ করছেন। তবে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী 'জিএফএস প্রাইড' নামের এই জাহাজটির ডুবে যাওয়ার প্রকৃত কারণ নিয়ে ইরান এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও যুক্তরাজ্যের দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কনটেইনার পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় গত বুধবার জাহাজটি হামলার শিকার হয়। অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি হরমুজ প্রণালিতে ডুবে যায়।
তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, জাহাজটি অনুমোদনহীন পথ দিয়ে যাওয়ার সময় সাগরে থাকা নৌমাইনের আঘাতে ডুবেছে। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি নিশ্চিত করেছে যে, দুর্ঘটনার পর জাহাজটির ২১ জন নাবিককেই অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ৬ অক্টোবর ওমান উপসাগরে নজরদারি চালানোর অভিযোগে ইরানের একটি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছিল মার্কিন বাহিনী।
এছাড়া গত সেপ্টেম্বর মাসে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া 'কেপ দাও' নামের আরেকটি বড় জাহাজও সম্প্রতি এই জলপথের কাছাকাছি ডুবে গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া রাখা এবং আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর কৌশল হিসেবেই তেহরান এই জলপথে মার্কিন মিত্রদের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ড্রোন হামলাসহ অন্তত পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মূলত গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই ইরান এই অঞ্চলে তাদের পালটা হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো, যা এখন ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
এমএইচ
