ঢাকা, শুক্রবার   ১৬ অক্টোবর ২০২৬,   কার্তিক ১ ১৪৩৩

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জবি উপাচার্য ভবনের পাশে শিক্ষার্থীদের গরু জবাই

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:৩০ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৪:৩২ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার

ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা এক অভিনব ও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। পূর্বঘোষিত 'শুক্রবারের গরুভোজ' কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ভবনের পাশেই একটি গরু জবাই করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে এই পশু জবাইয়ের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা আগের দিন বৃহস্পতিবার ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করেছিলেন।

এর আগে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার যুক্তি দেখিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে যেকোনো ধরনের পশু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একই সাথে এই নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিধিমালা অনুযায়ী আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল বিজ্ঞপ্তিতে।

প্রশাসনের এই বিজ্ঞপ্তির পরেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা তাৎক্ষণিকভাবে এই 'গরুভোজ' আয়োজনের ডাক দেন। এই ভোজের অংশীদার হতে শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রতি ৭০ টাকা ফি নির্ধারণ করে বৃহস্পতিবার একটি গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

প্রশাসনিক এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে জকসুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি পেশ করেন, যার মধ্যে রয়েছে—পশু জবাই নিষিদ্ধের বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, এই নৈশভোজের বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার পেছনের কারণ তদন্ত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার নিয়মিত খাবারের তালিকায় গরু ও খাসির মাংস যুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে কোনো ভোজের আয়োজন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তাতে কোনো আপত্তি থাকবে না।