ঢাকা, সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬,   কার্তিক ৪ ১৪৩৩

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে আগুন, ৪ সেনা নিহত

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:৪১ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার সেনা নিহত ও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। 

রোববার দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ তথ্য জানিয়েছেন। 

কানাডার ভূখণ্ডে শান্তিকালীন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এটি অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

শনিবার কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে কী কারণে আগুন লেগেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানী অটোয়ায় কার্নি বলেন, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে নিশ্চিত করছি, এ পর্যন্ত চারজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং তাদের স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। কানাডার ভূখণ্ডে শান্তিকালীন সময়ে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি।’

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনায় আরও ১৯ জন গুরুতর সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। আটজনের অবস্থা স্থিতিশীল ও চিকিৎসা নেওয়ার পর ১২ জন আহত ব্যক্তি চলাফেরা করতে পারছেন।

কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সামরিক ঘাঁটির প্রশিক্ষণ এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়।

মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড সাংবাদিকদের জানান, আলবার্টার প্রেইরি অঞ্চলে খোলা জায়গায় সামরিক প্রশিক্ষণ চলাকালে সেনাসদস্যরা দ্রুত এগিয়ে আসা আগুনের মুখে পড়ে যান।

তিনি বলেন, ‘৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রথমে তারা কোথাও আগুন দেখতে পাননি, এরপর হঠাৎ আগুন তাদের ওপর ছড়িয়ে পড়ে।’

রাটল্যান্ড জানান, আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল প্রশিক্ষণ এলাকার ভেতরে। পরে আগুন নির্ধারিত সুরক্ষাবেষ্টনী অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আগুন লাগার কারণ নির্ধারণে তদন্তকারীদের অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ধারণায় বলা হচ্ছিল, কোনো গোলাবারুদের আঘাতে হাইড্রোকার্বন পরিবহনকারী পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন লাগতে পারে। 

এ বিষয়ে রাটল্যান্ড বলেন, ‘আপনারা হয়তো বিস্ফোরণের খবর শুনেছেন। তবে আমাদের ধারণা, তেল-গ্যাস অবকাঠামোর কারণে কিংবা বাইরে থেকে কোনো হস্তক্ষেপের ফলে এ ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পরিদর্শনে তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়নি। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা করা হবে।

ওয়েনরাইটের পৌর প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, ‘সামরিক ও বেসামরিক কর্মীরা কল্পনাতীত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে সারা রাত আগুনের সঙ্গে লড়াই করেছেন। সহকর্মী ও অন্য কানাডীয়দের রক্ষা করতে তারা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন।’

ওয়েনরাইট সামরিক ঘাঁটি কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম বৃহৎ ঘাঁটি। এখানে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ন্যাটোভুক্ত বিভিন্ন দেশের সেনাসদস্যরাও অংশ নেন।

ন্যাটোর সামরিক কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল জিউসেপ কাভো দ্রাগোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করেছেন। নিহত সেনাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

কাভো দ্রাগোনে বলেন, ‘ওয়েনরাইট এমন একটি জায়গা, যেখানে কানাডীয় সেনারা ও তাদের সঙ্গে বহু মিত্র দেশের সেনাসদস্যরা আমাদের পেশার সবচেয়ে কঠিন দায়িত্বগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাটোর ৩২টি মিত্র দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানেরা আপনাদের এবং কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রয়েছেন।’

দুর্ঘটনার পরপরই ঘাঁটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এডমন্টন শহরের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক ওয়ারেন থির্স্ক কানাডার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিকে জানান, আহতদের ব্যাপক চাপের কারণে ওয়েনরাইটের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো রোগীর সংখ্যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল।

কার্নি বলেন, ‘আহতদের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে আমরা তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে পাশে থাকব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই শোকের ভার বহন করার সময় আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর নারী ও পুরুষ সদস্যদের পাশে থাকব। তাদের একা এই শোক বহন করতে হবে না, কারণ কানাডায় আমরা একে অপরের খেয়াল রাখি।’

এএইচ