সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের ২ দিন আগে পরিবারের সঙ্গে কথা হয় নজরুলের
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:৩৬ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে। তার মৃত্যুর খবরে বাড়িজুড়ে চলছে শোকের মাতম।
পরিবারের অভিযোগ, না জানিয়ে গেল ১৪ অক্টোবর সে দেশে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ওই গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির ৪ সন্তানের মধ্যে সবার বড় সে।
পরিবার জানায়, নজরুল ইসলাম এসএসসি পাশ করে পরিবারের হাল ধরতে ২০২২ সালে সৌদি আরবে যান। সেখানের মক্কা নগরীর হেরাম শরীফে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ পান। সাত মাস পর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে হঠাৎ একদিন তার ছেলে জেলখানা থেকে ফোন দিয়ে জানায় সে কারাগারে বন্দি। তবে কি কারণে বন্দি সে বিষয়টি কিছু জানায়নি।
গেল রোববার সবশেষ নজরুলের সাথে কথা হয় পরিবারের। পরে গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন বুধবার ১৪ অক্টোবর নজরুলের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, তিন বছরের বেশী সময় সেখানে সে আটক থাকার পর গেল বুধবার ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ কনস্যুলেট কিংবা পরিবারকে না জানিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরের আগে নজরুল ইসলামকে আইনি সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কিনা কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা কি ছিল তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নজরুলের বাবা-মা।
এদিকে নজরুলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে সেদিনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। এমন করুণ পরিনতিতে গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বজন ও এলাকাবাসীরা শোর্কাত মা-বাবার পাশে থাকতে তার বাড়িতে ভীড় করছেন।
স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশ সরকারকে না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন মৃত্যুদণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। নজরুল ইসলামের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানান।
জেলা প্রশাসক মোঃ সাঈদ জানান, মরদেহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তা করা হবে।
এএইচ
