ঢাকা, সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬,   কার্তিক ৪ ১৪৩৩

অর্থপাচার মামলায় অ্যাপল গ্লোবাল টেলের এমডি ও চেয়ারম্যানের ২২ বছরের কারাদণ্ড

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:২৪ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৭:৪৫ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার

অর্থ পাচার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় অ্যাপল গ্লোবাল টেল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিউর রহমান খান ও চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন মজুমদারকে ২২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৯২৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিই বর্তমানে পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন। দুদকের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের রায় অনুযায়ী, আসামিদের দুটি পৃথক ধারায় এই সাজা দেওয়া হয়েছে। অর্থ পাচারের দায়ে তাদের ১২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৯২৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

অন্যদিকে, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে দুজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলেও তাদের অতিরিক্ত এক বছর কারাদণ্ড খাটতে হবে। দুই ধারার সাজা মিলিয়ে প্রত্যেককে মোট ২২ বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে বিচারক আরও নির্দেশ দেন, আসামিরা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাদের নামে থাকা সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালে অভিউর ও মহি উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। এরপর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন মোট ৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। গত ৫ অক্টোবর দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো।

এমএইচ