ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬,   কার্তিক ৫ ১৪৩৩

অভিবাসন নীতির কারণে ধ্বংসের মুখে ফ্রান্স, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:১৯ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার

ফ্রান্সে চলমান ভয়াবহ বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য ত্রুটিপূর্ণ অভিবাসন নীতিকে দায়ী করে আবারও তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যেভাবে ফ্রান্সে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন চলছে, তাতে খুব শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ ইউরোপের অন্যান্য নেতাদের অবিলম্বে তাদের দেশের সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

তিনি সাফ জানান, ফ্রান্সে চলমান দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলার মূল কারণ অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন; এর সঙ্গে দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা বা অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সম্পর্ক নেই। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি অনেক আগেই প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করেছিলেন যে, সারা বিশ্বের মানুষকে ফ্রান্সে অবাধে ঢুকতে দিয়ে তারা একটি মস্ত বড় ভুল করছেন। ইউরোপ যদি এখনই অপরাধীদের তাড়িয়ে সীমান্ত সিল না করে, তবে পুরো মহাদেশের পতন অনিবার্য।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে প্যারিসসহ ফ্রান্সের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষের বিক্ষোভ শুরু হয়। যা একপর্যায়ে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়। মুখোশধারী দাঙ্গাকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবন, পৌরসভা ও পুলিশ স্টেশনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই বিশাল বিক্ষোভে পুলিশের ছোঁড়া গ্রেনেডের আঘাতে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।

টানা কয়েকদিনের নজিরবিহীন সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার গভীর রাতে ফ্রান্সের বড় শহরগুলোতে আংশিক কারফিউ জারি করেছে ফরাসি সরকার।

শনিবারের সংঘর্ষে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং দুই হাজার ৩০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে থাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফ্রান্সে যেকোনো মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু।

এমএইচ