ঢাকা, বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬,   কার্তিক ৫ ১৪৩৩

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: তথ্য গোপন রাখার কারণ জানতে চেয়ে প্রবাসী কল্যাণে কনস্যুলেটের চিঠি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:১০ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:১৩ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চার দিন পর ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়। 

গত ১৮ অক্টোবর পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। 

গত ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই নাগরিক হলেন নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে পৃথক অভিযোগে আটক ছিলেন।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের হাতে আসা বন্দিদের সর্বশেষ তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম থাকলেও তাদের সাজার বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না। তালিকায় রায় ঘোষিত কয়েদিদের সাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থাকার নিয়ম থাকলেও এই দুজনের কলাম ফাঁকা রাখা হয়েছিল। 

নথিপত্র অনুসারে, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে এবং পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে সুইটিকে আটক করা হয়। কনস্যুলেট জানিয়েছে, এর আগে সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ এবং ব্যভিচারের দায়ে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই।

১৪ অক্টোবর সৌদি প্রেস এজেন্সির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানার পরপরই তৎপর হয় বাংলাদেশ মিশন। ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি কূটনৈতিক পত্র (নোট ভারবাল) দেয়। এরপর ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। 

সবশেষ গত সোমবার জেদ্দার কনস্যুলেট জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন এবং তথ্য গোপন রাখার কারণ জানতে চেয়ে আরেকটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পত্র হস্তান্তর করেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে অনুবাদক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষে সরাসরি আদালতে অনুবাদক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। 

তবে এই দুই আসামির পক্ষে কোনো দোভাষী বা আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না, তা চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়নি। পাশাপাশি, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকেও আইনি সহায়তার জন্য কনস্যুলেটে কোনো আবেদন করা হয়নি। কনস্যুলেট আরও জানায়, বর্তমানে সৌদির পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে চারিত্রিক মামলায় ৩০৬ জন এবং সাইবার অপরাধে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বিভিন্ন মেয়াদে (১ মাস থেকে ১৫ বছর) সাজা ভোগ করছেন।

এমএইচ