সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের ১৫ দিন আগে সুইটি জানান ‘মুক্তি পেতে পারেন’
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৫৩ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার
সৌদি আরবের কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্র ১৫ দিন আগেও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন টাঙ্গাইলের সুইটি আক্তার। তিনি জানিয়েছিলেন, কয়েক মাসের মধ্যেই মুক্তি পেতে পারেন তিনি। কিন্তু সেই আশার কথা আর বাস্তবে রূপ নিল না।
এদিকে সৌদি আরবে সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে।
প্রায় চার বছর আগে ধারদেনা করে মেয়েকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের দিনমজুর ফজল মিয়া।
পাঁচ মাস বাড়িতে টাকা পাঠানোর পর একদিন ফোন করে সুইটি জানান, তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। কর্মরত অন্য নারীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে পরিবারের কাছে দাবি করেছিলেন তিনি।
এরপর প্রায় এক বছর সুইটির কোনো খোঁজ পাননি স্বজনেরা। পরে কারাগার থেকে নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন তিনি। সবশেষ ১৫ দিন আগেও ফোনে কথা বলেন বাবার সঙ্গে। তখনও মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে কিছু জানাননি সুইটি। বরং তিনি জানিয়েছিলেন, কয়েক মাসের মধ্যেই কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
কিন্তু সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেয়ে শোকে স্তব্ধ পরিবার। স্বজনদের কাছে এখন শুধুই মেয়ের স্মৃতি আর অসংখ্য প্রশ্ন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সুইটি আক্তার মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের এক গ্রামের দিনমজুরের ছোট মেয়ে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসার টেকেনি। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। এরপর পরিবারের চাপে আরেকজনকে বিয়ে করেন। কিন্তু স্বামী সৌদি আরবে যাওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং বাবার সংসারের অভাব দূর করতে তিন বছর আগে সৌদিতে যান। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন। কিন্তু সৌদি আরবে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি গ্রেফতার হন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক নজরুল ইসলাম মাহিন। সে পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অপরজন হলেন টাঙ্গাইলের সুইটি আখতার।
এএইচ
