জুমার দিনে যে ১০ আমল, দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৩:৫৩ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
মুসলমানদের কাছে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে জুমার নামাজ আদায়ের পাশাপাশি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ, দোয়া ও দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ রয়েছে।
ইসলামে জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, দিন গণনা সূর্যাস্ত থেকে শুরু হয়। সে হিসাবে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকেই জুমার রাত শুরু হয়। তাই জুমার রাত ও দিন উভয় সময়েই ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন ইসলামি আলেমরা।
দরুদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো মহানবী (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। পবিত্র কোরআনের সুরা আহজাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে মুমিনদের নবীজির প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিসেও জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
এদিন কেউ চাইলে দরুদে ইব্রাহিমি কিংবা সংক্ষিপ্ত দরুদ ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পাঠ করতে পারেন। পাশাপাশি আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, জিকির ও দোয়া করার মাধ্যমে সময় কাটানো যেতে পারে।
জুমার দিনে যে আমলগুলো করা উত্তম
ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, জুমার দিনে কয়েকটি আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে-
গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: জুমার নামাজের আগে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
আগেভাগে মসজিদে যাওয়া: সম্ভব হলে আগে মসজিদে গিয়ে মনোযোগের সঙ্গে ইবাদতে অংশ নেওয়া।
সুরা কাহফ তিলাওয়াত: জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা রয়েছ।
দরুদ পাঠ: মহানবী (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
জুমার নামাজ আদায়: প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষদের জন্য শরিয়তসম্মত শর্ত অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ।
মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা: খুতবার সময় কথা বলা ও অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত থাকা থেকে বিরত থাকা।
দান-সদকা:সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
ইস্তিগফার ও জিকির: আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁর স্মরণে সময় কাটানো।
দোয়া করা: নিজের, পরিবারের এবং সবার কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।
সৎকাজ ও ভালো আচরণ:মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করা এবং অন্যের উপকারে এগিয়ে আসা।
এসব আমলের মধ্যে কিছু নির্দিষ্টভাবে হাদিসে বর্ণিত, আবার কিছু সাধারণ নেক আমল হিসেবে পালন করা যায়। তাই প্রতিটি আমলের ফজিলত বা নির্দিষ্ট সওয়াব সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময় কখন?
জুমার দিনের একটি বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হওয়ার কথা সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তবে সেই সময়টি ঠিক কখন, তা নিয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। অনেক আলেম আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগের সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
এ কারণে এ সময় বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে সারা দিনই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেতে পারে।
ইবাদতে আন্তরিকতাই গুরুত্বপূর্ণ
জুমার দিনের আমল কেবল কিছু নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-সদকা এবং মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণের মাধ্যমে দিনটিকে অর্থবহ করে তোলা যায়। পাশাপাশি ইবাদতের ক্ষেত্রে লোকদেখানো মনোভাব পরিহার করে আন্তরিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামি নির্দেশনা অনুসরণ করে জুমার দিনের সময়কে ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।
ঐ.মিষ্টি//
