ভারত থেকে আমদানি করা চালে মিলল ‘আফলাটক্সিন’ নামক ক্ষতিকর উপাদান
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৬:২৫ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৬:৪৮ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার
ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) আমদানি করা চালের একটি বড় চালানে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপাদান ‘আফলাটক্সিন’-এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক পরীক্ষায় চালগুলো ‘খাবার উপযোগী’ বলে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও, পরবর্তী উন্নত ল্যাব পরীক্ষায় চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) ১৩৫ টন চালে এই বিষের উপস্থিতি ধরা পড়ে। হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, চালগুলো অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুনরায় নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ নামক একটি জাহাজে করে ভারত থেকে এই চালগুলো দেশে আনা হয়। গত ২১ জুলাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল নমুনা সংগ্রহ করে তা খাবার উপযোগী বলে প্রতিবেদন দেয়। এরপর ২৪ ও ২৫ জুলাই চাল খালাস করে ঢাকার তেজগাঁও, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়। তবে গুদামে পৌঁছানোর পর চালের অতি নিম্নমান দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আপত্তি তোলেন এবং পরিবহন ঠিকাদারেরাও এর সরবরাহ স্থগিত রেখে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান।
চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় খাদ্য সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। গত ১৭ আগস্ট গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তির নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল চট্টগ্রামে এসে বিভিন্ন গুদামের চালের স্তূপ থেকে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করে। সেই নমুনার ল্যাব টেস্টেই হালিশহরের ১৩৫ টন চালে বিপজ্জনক আফলাটক্সিন শনাক্ত হয়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়ে ৯ হাজার টন চালের বিতরণ স্থগিত রেখে মান পরীক্ষা করা হয়। তবে ল্যাবে চূড়ান্ত পরীক্ষায় শুধুমাত্র ১৩৫ টন চালে ক্ষতিকর উপাদানটি পাওয়া যায় এবং বাকি চাল নিয়ম অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডির ব্যবস্থাপকেরা। চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ শাখার নিয়ন্ত্রক রেজোয়ান সাকিব জানান, এই চালে বিষাক্ত উপাদান পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও অধিকতর পরীক্ষার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি মানবদেহের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এটি মূলত ‘অ্যাসপারজিলাস’ গোত্রের এক ধরণের ছত্রাক থেকে তৈরি বিষাক্ত উপাদান, যা স্যাঁতসেঁতে বা আর্দ্র পরিবেশে শস্য, বাদাম ও চাল দীর্ঘক্ষণ থাকলে জন্ম নেয়। গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলী সতর্ক করে বলেন, আফলাটক্সিনযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে মানুষের লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
এমএইচ
