ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬,   কার্তিক ৮ ১৪৩৩

গাজীপুরে ঘরে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ, একই পরিবারের শিশুসহ দগ্ধ ৪

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:০২ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার

গাজীপুরের জয়দেবপুর থানা এলাকায় একদল দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে একই পরিবারের চারজন সদস্য গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের দুই অবুঝ শিশু সন্তান রয়েছে। দগ্ধরা হলেন—মহসিন প্রধান (৩০), তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার (২৫) এবং তাদের দুই ছেলে সায়ান (৫) ও সোহাদ (৪)। বর্তমানে তাদের রাজধানী ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে ওই আবাসিক বাসাটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় ঘরের বাসিন্দারা হঠাৎ বসার ঘরের সোফায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন।

মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ঘরের কাঠের তৈরি সিলিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে ঘরের বারান্দায় পার্কিং করে রাখা দুটি মোটরসাইকেলেও আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে পরিবারটিকে ভেতরে আটকে ফেলে।

অগ্নিকাণ্ডের পর পর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দগ্ধ চারজনকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাদের দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দগ্ধদের ক্ষতের বিবরণ দিয়েছেন।

তিনি জানান, হাসপাতালে আসা একই পরিবারের চারজনের মধ্যে মা সেলিনা আক্তারের শরীরের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া বড় ছেলে সায়ানের ১২ শতাংশ, ছোট ছেলে সোহাদের ২ শতাংশ এবং বাবা মহসিন প্রধানের শরীরের ১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ আরও জানান, দগ্ধ চারজনের মধ্যে শ্বাসনালী ও শরীরের বেশি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মা সেলিনা ও বড় ছেলে সায়ানকে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তুলনামূলক কম দগ্ধ হওয়া বাবা মহসিন ও ছোট ছেলে সোহাদকে বর্তমানে জরুরি বিভাগের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ এই নাশকতামূলক অগ্নিকাণ্ডের পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

এমএইচ