ঢাকা, রবিবার   ২৫ অক্টোবর ২০২৬,   কার্তিক ১০ ১৪৩৩

সাঈদীর মামলার বাদীকে গোপনে গার্ড অব অনার, দাফনে বাধা

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০:১৯ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ১০:৩০ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার

মোবাইলের আলো জ্বেলে কবর খুরছেন দুই মেয়ে

মোবাইলের আলো জ্বেলে কবর খুরছেন দুই মেয়ে

পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদান এবং নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। 

পরিবারের অভিযোগ, গার্ড অব অনার দিতে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মরদেহ দাফনে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। 

তবে দাফন ও গার্ড অব অনারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা জামায়াতের এক নেতা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এ সময় স্থানীয়দের বাধার কারণে সেখানে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মানিক পশারীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, মরদেহ নিয়ে দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গেলে গার্ড অব অনারের জন্য তাঁদের বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় মরদেহ সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে কয়েক ঘণ্টা রাখা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। 

পাশাপাশি দাফনের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছিল। 

তবে মানিক পশারীর মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদান বা দাফনে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় কিছু মানুষ বা উৎসুক জনতা বাধা দিয়ে থাকতে পারেন।

পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়।

এএইচ