ইরানে হামলা নাকি সমঝোতা, যে ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৪:০৬ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে দেশটিতে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকেই ইরানে হামলা শুরু হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে একটি বড় চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভাবছে এবং রোববারই সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা তিনি স্পষ্ট করে জানাননি।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে ,ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান চুক্তিতে রাজি হলে নতুন করে হামলা এড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর ইরান শর্তগুলো যথাযথভাবে মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। এর আগে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে চালানো সামরিক অভিযানও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এ কারণে ইরান ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে এবং সমঝোতার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তাঁর বক্তব্যে একদিকে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা ধরে রাখার অবস্থান উঠে এসেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এবং মতপার্থক্য সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন নিয়েও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো অনিশ্চিত। একদিকে ট্রাম্পের নতুন সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে পেজেশকিয়ানের আলোচনায় ফেরার আগ্রহ—দুইয়ের মধ্যে সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে সম্ভাব্য সমঝোতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
এখন পর্যন্ত নতুন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ঐ.মিষ্টি/
