প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরসঙ্গী বিমানমন্ত্রী, আলোচনায় থার্ড টার্মিনাল
ইমন চৌধুরী,রিপোর্টার
প্রকাশিত : ০৯:৪০ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ১০:০৭ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রোববার মধ্যরাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফরসঙ্গী হচ্ছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সফরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ছাড়ার কথা। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আরও রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরাও প্রতিনিধিদলে থাকছেন।
বহু প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালের অবকাঠামো নির্মাণের পর এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে এর কার্যকর পরিচালনা। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পরিচালনাচুক্তি, দায়িত্ব বণ্টন এবং কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতির সঙ্গে টার্মিনালটি চালুর সময়সূচি সম্পর্কিত। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে নির্ধারিত সময়ে যাত্রীসেবা শুরুর প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, সরকার ১৬ ডিসেম্বর আংশিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। শুরুতে প্রায় ২০টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে কার্যক্রম বাড়ানো হবে। অর্থাৎ বিজয় দিবসে আংশিক চালুর লক্ষ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হতে আরও সময় প্রয়োজন হবে।
টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি নিয়ে বেবিচক ও জাপানি কনসোর্টিয়ামের আনুষ্ঠানিক আলোচনা গত সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। সে সময় বিমানমন্ত্রী জানান, পরিচালনা থেকে অর্জিত রাজস্বে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বিদেশি অপারেটরের মধ্যে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব কীভাবে ভাগ হবে, সেটিও আলোচনার বিষয় ছিল।
ফলে টার্মিনাল ঘিরে সব বিষয়ে অচলাবস্থা রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। কিছু বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য আগেই প্রকাশিত হয়েছে। এখন পরিচালনাচুক্তি চূড়ান্ত করা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ এবং যাত্রীসেবা শুরুর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
গত সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে বিমানমন্ত্রী সরঞ্জামগুলোর সমন্বয় এবং অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার বা ওরাট কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এই প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে নতুন টার্মিনালে কার্যক্রম স্থানান্তর ও বিভিন্ন সেবা একসঙ্গে পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত করা। ভবন প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি এসব কাজ শেষ করাও কার্যক্রম শুরুর জন্য জরুরি।
যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতেও পৃথক ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগ এবং নির্ধারিত কর্মদক্ষতার সূচকের মাধ্যমে সেবার মান পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমানোও এই উদ্যোগের অংশ।
তৃতীয় টার্মিনালের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে। দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির বাস্তবায়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তৃতীয় টার্মিনালসংক্রান্ত আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত আসে, তা ১৬ ডিসেম্বরের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হবে। তবে সফরেই সব জটিলতার অবসান ঘটবে কি না কিংবা পরিচালনাচুক্তি চূড়ান্ত হবে কি না, তা বৈঠকের ফল ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।
এমএইচ
