আবারও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা দা সিলভা
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:৫৯ এএম, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রানঅফের ভোটের ব্যালট গণনা শেষ হয়েছে। এতে দেখা যায়, লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা অভূতপূর্ব চতুর্থ মেয়াদে জয় পেয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দেশটির নির্বাচন আদালত এ কথা জানিয়েছে। আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
অপরদিকে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বি ফ্লাভিও বলসোনানো সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে হেরে গেছেন।
জরিপ, নজির ও বৈশ্বিক ক্ষমতাসীনবিরোধী মনোভাবকে উপেক্ষা করে অপ্রত্যাশিত এ ফল লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থি নির্বাচনী জয়ের ঢেউয়ে লাগাম টেনে ধরেছে।
ব্রাজিলের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ ব্যালট গণনা হয়েছে। এরমধ্যে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট। অপরদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট। যা প্রদর্শন করছে তাদের মধ্যে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।
খুব বেশি ব্যবধান না হওয়ায় দুই প্রেসিডেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বি শিবিরেই চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছিল। ফলে দুই পক্ষকেই শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
ফ্লাভিও বোলসোনারোর বাবা জেয়ার বোলসোনারে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাকে গতবার হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হন বামপন্থি লুলা দ্য সিলভা।
কিন্তু জেয়ার বলসোনারো সামরিক বাহিনীকে দিয়ে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে লুলাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন আইনি জটিলতায় পড়ে আর নির্বাচন করতে পারেননি। এর বদলে তার ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও নির্বাচন করেছেন। কিন্তু তার ছেলেও হেরে গেছেন।
গত ৪ অক্টোবর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। কিন্তু কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তা রানঅফে গড়ায়। রানঅফে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী।
ওইদিনের নির্বাচনে ফ্লাভিও সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছিলেন। আর লুলা হয়েছিলেন দ্বিতীয়। তবে রানঅফে তিনি ফ্লাভিওকে হারিয়ে দিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ১৯৮৮ সালের পর এবারই প্রথমবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এমন ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রথম দফার নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েও রানঅফে গিয়ে হেরে গেছেন সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী।
লুলা ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরব। তিনি গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে।
লুলার এ জয় বহু প্রত্যাবর্তনে ভরা তার ক্যারিয়ারে আরেকটি প্রত্যাবর্তন। ৮০ বছর বয়সী লুলা ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে ছিলেন। পরে অভিযোগ বাতিল হওয়ায় ২০২২ সালের নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে হারানোর পথ খোলে।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা, রয়টার্স
এএইচ
