লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৪:৫৩ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৫:০৮ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার
লক্ষ্মীপুরে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে জুয়েল হোসেন নিরব নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখমের ঘটনা ঘটিয়েছেন ছাত্র দল নেতা শাহেদ। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে হামলা-মারামারির ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ঘটনাটি ঘটেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মধ্যে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে পেটানোসহ কিল-ঘুসি ও লাথি দিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। ছাত্রদল নেতা শাহেদ ও তার অনুসারীরা ঘটনাটি ঘটিয়েছে। আহত জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহত জুয়েল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। অভিযুক্ত শাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।
জানা যায়, সন্ধ্যায় শাহেদ ও জুয়েলদের মধ্যে মোবাইল কেনবেচা নিয়ে মারামারি হয়। এতে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য জুয়েল হাসপাতালে আসেন। এ সময় শাহেদ তার অনুসারীদের নিয়ে এসে হাসপাতালের সামনেই জুয়েলকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মারধর থেকে বাঁচতে জুয়েল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি কক্ষে ঢুকলে সেখানেও শাহেদ যান। এ সময় ইমার্জেন্সি কক্ষের ভেতরই শাহেদ তাকে চেয়ার দিয়ে পিটুনিসহ এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও শাহেদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ ও সদস্য সচিব হাসিবুর রহমান অভি জানান, শাহেদ দালাল বাজার কলেজ ছাত্রদলের ক্লাশ কমিটির নেতা ছিলেন। এখন কোনো পদ-পদবী নেই। তবে তিনি পৌর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, হাসপাতালে হামলার বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনায় হামলার চিত্র সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে অবিহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরাও আতঙ্কে আছি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ
