ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২৬,   কার্তিক ১১ ১৪৩৩

বানিয়াচংয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে বিরোধ, শরীর কেটে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৫৯ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৬:০১ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে একটি পক্ষ নিজেদের শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন তৈরি করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপরাধ লোকজনকে মামলায় জড়ানোরও অভিযোগ রয়েছে।

গত ১ অক্টোবর বানিয়াচং উপজেলার সিকন্দরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তদন্তের দাবি জানিয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সিকন্দরপুর গ্রামের এনামুল হক ও তাঁর চাচাতো ভাই সুমন মিয়ার মধ্যে বাড়ির সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এনামুল হক নিজের ঘরের সামনে একটি ক্যামেরা স্থাপন করে সেটি প্রতিবেশী সুমন মিয়া ও মনু মিয়ার ঘরের দিকে তাক করে রাখেন। এতে তাঁদের ঘরের ভেতরের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডও ক্যামেরায় ধারণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ নিয়ে সুমন মিয়া স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির কাছে অভিযোগ করেন। গ্রামের পক্ষ থেকে এনামুল হককে ক্যামেরা সরানোর জন্য বলা হলেও তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্যামেরার দিক পরিবর্তন করেননি। পরে ঘটনার দিন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালামকে সঙ্গে নিয়ে সুমন মিয়া এনামুল হকের বাড়ির উঠানে গিয়ে ক্যামেরার অবস্থান দেখান এবং এর দিক নিয়ে আপত্তির কথা জানান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর এনামুল হক, কবির মিয়া ও হেলাল মিয়া একটি অটোরিকশায় করে হবিগঞ্জ শহরের দিকে চলে যান। পরে তাঁরা নিজেদের শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন তৈরি করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় এনামুল হক বাদী হয়ে গত ৬ অক্টোবর বানিয়াচং থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম, তাঁর দুই ছেলে সৈকত ও সোহান এবং রফিক মিয়াসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

সিকন্দরপুর তাজবীদুল কুরআন মাদ্রাসার সভাপতি ও আলহাজ গোলাম আহমদ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তিনি মসজিদে মাগরিবের নামাজে ছিলেন। নামাজ শেষে বাইরে এসে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। তখন মাদ্রাসা মার্কেটের সামনে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালামসহ এলাকার কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনেই সুস্থ অবস্থায় এনামুল হক, তাঁর ভাই কবির মিয়া ও ভাতিজা হেলাল ক্ষুব্ধ হয়ে একটি অটোরিকশায় করে হবিগঞ্জ শহরের দিকে রওনা হন।

নজরুল ইসলামের দাবি, ওই সময় উপস্থিত কেউ তাঁদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখেননি। অথচ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। তবে এনামুল হকসহ কারও ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেনি। তাঁর ভাষ্য, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য একটি পক্ষ নিজেদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন তৈরি করে মামলাটি করেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এনামুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে যান অথবা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক বলেন, পুলিশ সুপারের কাছে করা আবেদনের অনুলিপি তিনি এখনো পাননি। সেটি পাওয়ার পর অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। ঘটনা সাজানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএইচ