ব্যালন ডি’অর জিতে ইংলিশদের ২৫ বছরের অপেক্ষা ঘোচালেন কেইন
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:৩৩ এএম, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:৩৯ এএম, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার
ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন মাইকলে ওয়েন। ২৫ বছর পর ইংলিশদের অপেক্ষা ঘোচালেন হ্যারি কেইন। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো জিতলেন ব্যালন ডি’অর ট্রফি।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও মঞ্চে গিয়ে বর্ষসেরার ট্রফি তুলে দেন কেইনকে। প্যালাডিয়াম থিয়েটারে যখন রোনালদো ব্যালন ডি'অর জয়ীর নাম ঘোষণা করতেই লন্ডনের এই অনুষ্ঠান মঞ্চের চতুর্দিকে উল্লাস 'হ্যারি, হ্যারি'।
লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপের হৃদয় ভেঙে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার পেলেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার।
স্ট্যানলি ম্যাথুস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান এবং ওয়েনের পর পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন ৩৩ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার। ১৯৮১ সালে কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগের পর বায়ার্নের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবেও বর্ষসেরার ট্রফিটি জিতলেন কেইন।
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেন কেইন। এর মধ্যে বায়ার্নের হয়ে ৫১ ম্যাচে করেন ৬১ গোল। এক মৌসুমে বায়ার্নের আর কোনো খেলোয়াড় এত গোল করতে পারেননি। ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে ও বায়ার্নকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালেও তোলেন কেইন।
লড়াইটা তাঁর ছিল মূলত ইয়ামাল ও এমবাপ্পের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে তাঁদের হারিয়ে লন্ডনে ঘরের মাটিতে ট্রফিটি জিততে পারা কেইনের জন্য সত্যিই বিশেষ এক ব্যাপার।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে সে কথাই বললেন ইংল্যান্ড তারকা, ‘আমি প্রায় ভাষাহীন। লন্ডনে এটা হওয়ায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। আমাকে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। জানি এ বছরটা অনেক কঠিন ছিল। এই কক্ষে বিশ্বমানের সব খেলোয়াড়। তাদের এবং বিজয়ী ও মনোনয়ন পাওয়া সবাইকে অভিনন্দন।’
তিনি আরও বলেন, আজকের রাতে এই হলে অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় উপস্থিত আছেন। আজকের সমস্ত বিজয়ী ও মনোনীতদের অভিনন্দন। জেদ এবং কঠোর পরিশ্রম যে সত্যি সাফল্য এনে দিতে পারে, আজ সেটিই ফুটে উঠেছে।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কেইন ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে মোট ৭৩টি গোল করেছেন।
খেলোয়াড়দের র্যাঙ্কিং নির্ধারণে বিচারকদের কেবল সাম্প্রতিক মৌসুমটিই বিবেচনায় নিতে বলা হলেও ২০২৩ সাল থেকে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১৫৮ খেলায় কেইনের চোখধাঁধানো ১৫৬টি গোল তাকে এই জার্মান ক্লাবের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সপ্তম স্থানে তুলে এনেছে।
তিনি টানা তিন মৌসুম ধরে বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। সেই সাথে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপের সার্বিক শীর্ষ ক্লাব গোলদাতাও ছিলেন কেইন।
এদিকে মেয়েদের ২০২৬ সালে ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন স্পেন তারকা অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। বার্সেলোনার সাবেক এ মিডফিল্ডার ২০২১ ও ২০২২ সালের পর এবার তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতলেন।
এক নজরে ২০২৬ ব্যালন ডি’অর
ছেলেদের ব্যালন ডি’অর জয়ী: হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)
মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জয়ী: অ্যালেক্সিস পুতেয়াস (স্পেন ও লন্ডন সিটি লায়নেস)
ছেলেদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড় : লামিনে ইয়ামাল (স্পেন ও বার্সেলোনা)
মেয়েদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়: ভিকি লোপেজ (স্পেন ও বার্সেলোনা)
মেয়েদের ফুটবলে সেরা কোচ: পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা)
ছেলেদের ফুটবলে সেরা কোচ: লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন)
মেয়েদের ফুটবলে সেরা গোলকিপার: কাতা কোল (বার্সেলোনা)
ছেলেদের ফুটবলে সেরা গোলকিপার: উনাই সিমোন (স্পেন)
সক্রেটিস পুরস্কার: বুকায়ো সাকা (ইংল্যান্ড ও আর্সেনাল)
মেয়েদের সেরা ক্লাব: বার্সেলোনা
ছেলেদের সেরা ক্লাব: পিএসজি
ছেলেদের সেরা স্ট্রাইকার: হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)
মেয়েদের সেরা স্ট্রাইকার: শার্লিন কোবরাল (মেক্সিকো ও পাচুয়া)
এএইচ
