সাগর-রুনি হত্যায় নতুন ক্লু, আরও ৬ মাস সময় পেল টাস্কফোর্স
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০২:০৯ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:৪৯ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে ৫ম বারের মত আরও ৬ মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সকল নথি দেখাতে টাস্কফোর্সের প্রধান ও তানভীর জোহাকে ২৯ এপ্রিল ২০২৭ হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দিতে পারেনি হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স। এ নিয়ে টানা চতুর্থ বার সময় নিয়ে ব্যর্ধ হয় তারা।
তবে মঙ্গলবার ২৭ পৃষ্টার একটি প্রতিবেদন দাখিল করে টাস্কফোর্স। টাস্কফোর্সের বরাতে প্রতিবেদন সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল হাইকোর্টকে জানান, এই হত্যাকাণ্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর জড়িত থাকার যে তথ্য মিলেছে তা নিয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন। সেজন্য সময় লাগবে ১ বছর।
সব শুনে হাইকোর্ট আদেশে বলেন, যেহেতু নতুন ক্লু মিলেছে কাজেই পঞ্চম বারের মত রাষ্ট্রপক্ষকে সময় দেয়া হলো ৬ মাস। ২৯ এপ্রিল ২০২৭ এ মামলার টাস্কফোর্সের প্রধান ও যিনি নতুন ক্লু বের করেছেন তাদের সশরীরে হাজির হতে হবে হাইকোর্টে। সেদিন ক্যামেরা ট্রায়াল হবে হাইকোর্টে।
এদিকে, সাগর রুনি হত্যাকান্ডের তদন্ত রিপোর্ট পেতে পরিবার অনেক ধৈর্য ধারণ করেছেন আরো কিছুদিন ধৈর্য ধারণ করা ছাড়া উপায় নেই বলে জানান সাগর রুনি পরিবারের আইনজীবী।
এখন পর্যন্ত টাস্কফোর্স ৯০ জনের বেশী ব্যক্তিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। যার মধ্যে সাংবাদিক, বিচারপতি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে রয়েছে।
এর আগে অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করে আবারও সময় চেয়ে আবেদন করে বিশেষ তদন্ত দল টাস্ক ফোর্স।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এরপর ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর ও চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল তিন দফায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আরও ছয় মাস করে সময় দেওয়া হয়। তার ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি আবার কার্যতালিকায় ওঠে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
এএইচ
